| বঙ্গাব্দ

বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আখতার হোসেনের ভাষণ | সংসদ ২০২৬।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-04-2026 ইং
  • 1126765 বার পঠিত
বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আখতার হোসেনের ভাষণ | সংসদ ২০২৬।
ছবির ক্যাপশন: আখতার হোসেনের ভাষণ

শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদদের মতো বিচারপতি নিয়োগ আর নয়’: সংসদে গর্জে উঠলেন আখতার হোসেন

সংসদ ও আইন প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল-২০২৬’-এর ওপর আপত্তিপত্র দিতে গিয়ে তিনি সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের মারপ্যাঁচে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

১. জুলাই সনদ বনাম ‘নোট অব ডিসেন্ট’

আখতার হোসেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন, সরকার পক্ষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও মূলত তারা সনদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের অংশটিকেই অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চায়। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার বদলে সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পুরোনো পথেই হাঁটছে।

২. সংবিধানের ৪৮(৩) ও ৯৫ অনুচ্ছেদের সংঘাত

আখতার হোসেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিচারপতি নিয়োগের আইনি জটিলতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন:

  • সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শে বিচারক নিয়োগ দেবেন—এটি দেখতে সুন্দর মনে হলেও আসলে এটি একটি ফাঁদ।

  • কারণ, ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব কাজে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে বাধ্য।

  • এর ফলে বিচারপতি নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা কার্যত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই থেকে যায়।

৩. ‘খাইরুল হক ও মানিক’ মডেলের পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা টেনে এনসিপি নেতা বলেন, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই শেখ হাসিনা সরকার এবিএম খাইরুল হক বা শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মতো ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদদের’ বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সেই দিনের সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশ আর মেনে নিতে পারে না।"

৪. সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদেই বলা আছে বিচারপতি নিয়োগের জন্য সরকার চাইলে আইন করতে পারবে। বর্তমানে মাত্র তিনটি সাধারণ শর্তের (নাগরিকত্ব, ১০ বছরের প্র্যাকটিস বা বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা) ওপর ভিত্তি করে দলীয় লোক নিয়োগের যে সংস্কৃতি চালু আছে, তার পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ করার দাবি জানান তিনি।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে আমরা যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছি, তখন আখতার হোসেনের এই পয়েন্টটি অত্যন্ত যৌক্তিক। বিচার বিভাগকে যদি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রভাবমুক্ত করা না যায়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ‘ন্যায়বিচার’ অধরাই থেকে যাবে। এনসিপির পক্ষ থেকে এই জোরালো প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে, সংসদের ভেতরে বিরোধী কণ্ঠস্বরগুলো এখন অনেক বেশি তথ্যনির্ভর ও লজিক্যাল।


বিচারপতি নিয়োগের সাংবিধানিক জটিলতা: এক নজরে

অনুচ্ছেদমূল বিষয়বস্তুআখতার হোসেনের পর্যবেক্ষণ
৯৫ অনুচ্ছেদরাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শে বিচারক নিয়োগ দেবেন।এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা, আসল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
৪৮(৩) অনুচ্ছেদরাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করতে পারবেন না।এই অনুচ্ছেদই বিচারক নিয়োগকে রাজনৈতিক রূপ দেয়।
বর্তমান শর্তনাগরিকত্ব, ১০ বছরের অভিজ্ঞতা।এই সামান্য শর্তের সুযোগে অযোগ্য ও দলীয় লোক নিয়োগ পায়।
দাবিবিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছ আইন চাই।দলীয় আনুগত্য নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency